অ্যান্ড্রয়েডে থার্ড পার্টি অ্যাপকে সিস্টেম অ্যাপ বানানোর উপায়
অ্যান্ড্রয়েডে থার্ড পার্টি অ্যাপকে সিস্টেম অ্যাপ বানানোর উপায় সম্পর্কে জানতে চান? আপনিও কি আপনার অ্যান্ড্রয়েড ফোনে থার্ড পার্টি অ্যাপ গুলো ইনস্টল করতে চান? এখন আধুনিক যুগে শুধু ফোনের pre-installed সিস্টেম অ্যাপ গুলো দিয়ে সব ধরনের কাজ করা মুশকিল। তাই সবাই এখন থার্ড পার্টি অ্যাপ গুলো ইনস্টল করে।
অ্যান্ড্রয়েড ফোনে কিভাবে থার্ড পার্টি অ্যাপগুলোকে সিস্টেম অ্যাপ বানানো যায় এটা আমরা অনেকেই জানিনা। তাই আজকে আমরা এই আর্টিকেলের মাধ্যমে জানবো অ্যান্ড্রয়েড ফোনে কিভাবে থার্ড পার্টি অ্যাপগুলোকে সিস্টেম অ্যাপ বানানো যায়।
সূচিপত্রঃ অ্যান্ড্রয়েডে থার্ড পার্টি অ্যাপকে সিস্টেম অ্যাপ বানানোর উপায়
- অ্যান্ড্রয়েডে থার্ড পার্টি অ্যাপকে সিস্টেম অ্যাপ বানানোর উপায়
- থার্ড পার্টি অ্যাপ কি
- সিস্টেম অ্যাপ বলতে কি বোঝায়
- অ্যান্ড্রয়েডে থার্ড পার্টি অ্যাপগুলোকে সিস্টেম অ্যাপ বানানোর প্রয়োজনীয় জিনিস
- অ্যান্ড্রয়েড সিস্টেম অ্যাপের কাজ কি
- থার্ড পার্টি অ্যাপ ও সিস্টেম অ্যাপের মধ্যে অ্যান্ড্রয়েড ফোনের জন্য কোনটি ভালো
- অ্যান্ড্রয়েড ফোনের রুট এর কাজ কি
- রুট এক্সপ্লোরার ব্যবহার করে থার্ড পার্টি অ্যাপগুলোকে সিস্টেম অ্যাপে বানানোর নিয়ম
- Link2SD অ্যাপ ব্যবহার করে সিস্টেম অ্যাপ বানানোর নিয়ম
- Magisk Module ব্যবহার করে সিস্টেম অ্যাপ বানানোর নিয়ম
- একটি ইউজার অ্যাপকে সিস্টেম অ্যাপে রুপান্তরের সব থেকে সহজ নিয়ম
- লেখকের শেষ মন্তব্যঃ অ্যান্ড্রয়েডে থার্ড পার্টি অ্যাপকে সিস্টেম অ্যাপ বানানোর উপায়
অ্যান্ড্রয়েডে থার্ড পার্টি অ্যাপকে সিস্টেম অ্যাপ বানানোর উপায়
অ্যান্ড্রয়েডে থার্ড পার্টি অ্যাপকে সিস্টেম অ্যাপ বানানোর উপায় সম্পর্কে জানতে
গেলে সবার আগে জানতে হবে থার্ড পার্টি অ্যাপ কি এবং সিস্টেম অ্যাপ কি। থার্ড
পার্টি অ্যাপ হলো এমন ধরনের অ্যাপ যেগুলো একটা আন্ড্রয়েড ফোনে পরে ইনস্টল করা হয়
Google বা Play Store থেকে। আর সিস্টেম অ্যাপগুলোকে সেই অ্যাপ বলা হয় যেগুলো একটা
অ্যান্ড্রয়েড ফোনে আগে থেকেই ইনস্টল থাকে অর্থাৎ Pre-installed অ্যাপ।
অ্যান্ড্রয়েডে একটি থার্ড পার্টি অ্যাপকে সিস্টেম অ্যাপ এ রূপান্তর করার অর্থ
হলো, অ্যাপটিকে ডিরেক্টরি থেকে সরিয়ে সিস্টেম পার্টিশনে বা ফোল্ডারে স্থানান্তর
করা। বর্তমান ডিজিটাল যুগে কোন অ্যান্ড্রয়েড ফোনে থার্ড পার্টি অ্যাপকে সিস্টেম
অ্যাপ হিসেবে রুপান্তর করতে হলে সেই ডিভাইসটি অবশ্যই রুটেড হতে হবে, না হলে থার্ড
পার্টি অ্যাপকে সিস্টেম অ্যাপে রুপান্তর করা যাবে না। এই প্রক্রিয়াটির মাধ্যমে
একটি ব্যবহারকারী অ্যাপকে সিস্টেম পার্টিশনে স্থানান্তর করা হয়, যাতে ফোন রিসেট
করলেও সেটি মুছে না যায়।
এই প্রক্রিয়াটির ফলে অ্যাপটি ফোনের মূল সিস্টেমের অংশ হয়ে যায় এবং সাধারণ
উপায়ে এই অ্যাপ আনইন্সটল করা যায় না। আপনার যদি একটি স্যামসাং গ্যালাক্সি ডিভাইস
থাকে তবে কাজটি করা আপনার জন্য অনেক সহজ হয়ে যাবে। তবে অন্যান্য অ্যান্ড্রয়েড ফোন
ব্যবহারকারীদেরও ভয় পাওয়ার কিছু নেই, কারণ আজকের আর্টিকেলে এই বিষয়টি এমনভাবে
বুঝানো হবে যেন সব ধরনের অ্যান্ড্রয়েড ফোনেই এই কাজ করা সহজ হয়।
থার্ড পার্টি অ্যাপ কি
থার্ড পার্টি অ্যাপ হলো এমন একটি সফটওয়্যার বা অ্যাপ্লিকেশন, যা মোবাইল বা
কম্পিউটারের মূল প্রস্তুতকারক কোম্পানি, যেমনঃ গুগল, অ্যাপেল এর মতো কোম্পানি
তৈরি করে না, বরং অন্য কোন ডেভলপার বা কোম্পানি তৈরি করে। এগুলো সাধারণত
অফিশিয়াল স্টোর (Play store, App store) বা ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড করে ব্যবহার
করা হয়। থার্ড পার্টি অ্যাপগুলোর মধ্যে গুগল প্লে স্টোর থেকে বা অ্যাপেল অ্যাপ
স্টোর থেকে নামানো অ্যাপ গুলো সাধারণত নিরাপদ হয়।
এক কথায় বলতে গেলে, ডিভাইস বা অপারেটিং সিস্টেমের মূল প্রস্তুতকারক নয় এমন কারো
তৈরি করা অ্যাপই হলো থার্ড পার্টি অ্যাপ । যেমনঃ ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ,
ইনস্টাগ্রাম বা প্লে স্টোরের যেকোনো অ্যাপ থার্ড পার্টি অ্যাপের মধ্যে পরে।
বিভিন্ন ধরনের গেম, মিউজিক প্লেয়ার, ভিডিও প্লেয়ার ইত্যাদি এই থার্ড পার্টি
অ্যাপের উপযুক্ত উদাহরণ। এই থার্ড পার্টি অ্যাপ যে কেউ তৈরি করে অনলাইনে ছাড়তে
পারে। এই অ্যাপ গুলো সাধারণত তৈরি করে সাধারণ কোম্পানি বা পাবলিক।
সরাসরি ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করা APK ফাইল যা বিপজ্জনক হতে পারে। এগুলোর
মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য বা ফোনে ম্যালওয়্যার প্রবেশের ঝুঁকি থাকে। অজানা
ওয়েবসাইট থেকে অ্যাপ ডাউনলোড না করা এবং অ্যাপ ব্যবহারের আগে তাদের ডাটা
শেয়ারিং পলিসি যাচাই করা বুদ্ধিমানের কাজ। সবার উচিত প্রত্যেকটা ফোন ব্যবহার
করার আগে এই পলিসি যাচাই করে নেওয়া। সুতরাং আমরা বলতেই পারি, মূলত যে অ্যাপ গুলো
আপনার ফোনের সাথে আগে থেকে আসে না সেগুলোই থার্ড পার্টি অ্যাপ নামে পরিচিত।
সিস্টেম অ্যাপ বলতে কি বোঝায়
সিস্টেম অ্যাপ হলো একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস বা স্মার্টফোনে অপারেটিং সিস্টেম এর
সাথে আগে থেকে ইন্সটল করা অ্যাপ, যা ফোনের মূল ফাংশন গুলো সচল রাখতে সাহায্য করে।
এগুলো সাধারণত সিস্টেম/অ্যাপ ফোল্ডারে থাকে এগুলো সহজে মুছে ফেলা যায় না এবং
ডিভাইস ব্যবহার করার জন্য অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে। সিস্টেম অ্যাপ হলো আগে থেকে ইন্সটল করা
অ্যাপ। অন্য কথায়, একটি সিস্টেম অ্যাপ হলো অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসের 'system/app'
ফোল্ডারের অধীনে থাকা একটি অ্যাপ। 'system/app' একটি রিড-অনলি ফোল্ডার।
অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস ব্যবহারকারীদের এই পার্টিশনে এক্সেস থাকে না। তাই,
ব্যবহারকারীরা সরাসরি এতে অ্যাপ ইনস্টল বা আনইনস্টল করতে পারেনা। ক্যামেরা,
সেটিংস, মেসেজ, গুগল প্লে স্টোর ইত্যাদির মতো অ্যাপ গুলো ফোনের সাথে আগে থেকে
ইন্সটল করা থাকে এবং নির্মাতারা সাধারণত এই ধরনের অ্যাপ সরানোর কোন বিকল্প দেন
না, কারণ এটি আপনার ডিভাইসের কার্যকারিতা কে প্রভাবিত করতে পারে। একটি সিস্টেমে
শুধুমাত্র তখনই সরানো যায় যদি ডিভাইসটি রুটেড করা থাকে।
সিস্টেম অ্যাপ হলো রম এর সংরক্ষিত করা অ্যাপ। এগুলি সাধারণ অ্যাপ এর মতো
ব্যবহারকারী প্লে স্টোর থেকে নামান না, বরং ফোন কেনার সময়ই এগুলো থাকে। এই অ্যাপ
গুলো সাধারণত আনইন্সটল করা যায় না তবে নিষ্ক্রিয় করা যেতে পারে। এদের উচ্চতর
পারমিশন বা এক্সেস থাকে, যা অন্যান্য অ্যাপে থাকে না। ডিভাইসের হার্ডওয়ার
রিসোর্স (মেমোরি, প্রসেসর) ব্যবস্থাপনায় কাজ করে। এগুলি ছাড়া ফোন বা কম্পিউটার
সঠিক ভাবে কাজ করতে পারবে না।
অ্যান্ড্রয়েডে থার্ড পার্টি অ্যাপগুলোকে সিস্টেম অ্যাপ বানানোর প্রয়োজনীয় জিনিস
অ্যান্ড্রয়েডে থার্ড পার্টি অ্যাপকে সিস্টেম অ্যাপ বানানোর উপায় সম্পর্কে কাজ করার জন্য মূলত ডিভাইসে রুট এক্সেস (Root Access) থাকা
আবশ্যক। সিস্টেম অ্যাপ হিসেবে পরিণত করলে অ্যাপটি সাধারণ উপায়ে আনইন্সটল করা
যায় না এবং এটি সিস্টেম পার্টিশনে অবস্থান করে। নিচে থার্ড পার্টি অ্যাপ কে
সিস্টেম অ্যাপ বানানোর প্রধান প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হলোঃ
- রুট করা অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস (Rooted Device)ঃ ডিভাইসটি অবশ্যই রুটেড হতে হবে, তা না হলে, সিস্টেম ডিরেক্টরিতে ফাইল মুভ করা সম্ভব হবে না।
- রুট ফাইল এক্সপ্লোরার (Root File Explorer)ঃ যেমন- Solid Explorer, Root Explorer বা ES File Explorer ।
- Magisk (ম্যাজিক) সুপারিশকৃতঃ বর্তমান সময়ে 'App Systemizer' নামের একটি ম্যাজিক মডিউল ব্যবহার করা খুব সহজে ও নিরাপদে সিস্টেমলেস উপায়ে থার্ড পার্টি অ্যাপ সিস্টেম অ্যাপ বানানো যায়।
- Terminal Emulatorঃ অ্যাপ সিস্টেমাইজার ব্যবহার করতে টার্মিনাল অ্যাপের প্রয়োজন হয়। এটি ছাড়া অ্যাপ সিস্টেমাইজার ব্যবহার করা যায় না।
- Backup (ব্যাকআপ)ঃ যে কোন বড় পরিবর্তনের আগে ডাটা ব্যাকআপ রাখা জরুরি। এতে পরিবর্তন করার সময় যদি আপনার ডাটা ভুলবশত ডিলিটও হয়ে যায় তাহলে যেন আপনার ডাটা ব্যাকআপ হিসেবে থাকে একটা ফাইলে।
অ্যান্ড্রয়েড সিস্টেম অ্যাপের কাজ কি
অ্যান্ড্রয়েড সিস্টেম অ্যাপ হলো ফোনে আগে থেকে ইন্সটল করা অপরিহার্য
সফটওয়্যার (যেমনঃ সেটিংস, ক্যামেরা, ফোন, মেসেজ) যা অপারেটিং সিস্টেমের সুষ্ঠু
পরিচালনা, হার্ডওয়্যার নিয়ন্ত্রণ এবং প্রাথমিক কার্যকারিতা নিশ্চিত করে। এগুলো
সরাসরি সিস্টেম পার্টিশনে থাকে বলে সাধারণ ব্যবহারকারীরা চাইলেই এগুলো ডিলিট বা
আনইন্সটল করতে পারেনা। সিস্টেম অ্যাপের মূল কাজ গুলো নিচে দেওয়া হলোঃ
- ওএস পরিচালনা করাঃ অ্যান্ড্রয়েড ওএস- এর মূল কার্যকারিতা সচল রাখা এবং হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার এর মধ্যে সমন্বয় সাধন করা হলো এর প্রধান কাজ। এটি ছাড়া অ্যান্ড্রয়েড ফোন অচল হয়ে যাবে।
- হার্ডওয়্যার কন্ট্রোলঃ ক্যামেরা, জিপিএস, ব্লুটুথ, ওয়াই-ফাই, মেমোরি এবং প্রসেসরের মতো হার্ডওয়্যার উপাদান গুলো ঠিকভাবে কাজ করছে কিনা তা নিশ্চিত করা এই সেক্টরের কাজ।
- সেটিংস ও ইউজার ইন্টারফেসঃ ফোনের সেটিংস, নোটিফিকেশন বার, হোম স্ক্রিন এবং কি বোর্ড সহ ইউজার ইন্টারফেস নিয়ন্ত্রণ করা এই সিস্টেমের প্রধান কাজ।
- অ্যাপ্লিকেশন ও ওয়েব ভিউঃ অন্যান্য অ্যাপ এর ভেতরে কোন ওয়েব লিংক ওপেন করতে (একটি সিস্টেম অ্যাপ) সাহায্য করে। আর এটি হলো সেই অ্যাপ। অ্যাপ্লিকেশন ও ওয়েব ভিউ এর মাধ্যমে অন্যান্য অ্যাপের ভিতরে আপনি কোন ওয়েব লিংক অ্যাড করতে পারবেন।
- নিরাপত্তা ও আপডেটঃ ফোনের নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং সিস্টেমের নিয়মিত আপডেট নিশ্চিত করা এর কাজ। একটা নির্দিষ্ট সময় পর পর আপনার ফোনে আপডেট করার নটিফিকেশন যায়। আর এটাই হলো এর প্রধান কাজ অর্থাৎ আপনাকে আপনার ফোন আপডেট করার জন্য সতর্ক করে।
- স্মার্ট ফিচারঃ স্মার্ট ফিচার এর মত অ্যাপের মাধ্যমে ফোনের স্মার্ট ফিচারগুলো (যেমনঃ অটো ক্যাপশন, স্মার্ট রিপ্লাই ইত্যাদি) পরিচালনা করা। সহজ কথায় সিস্টেম অ্যাপ ছাড়া একটি অ্যান্ড্রয়েড ফোন অচল বা সাধারণ একটি প্লাস্টিকের টুকরায় পরিণত হবে।
থার্ড পার্টি অ্যাপ ও সিস্টেম অ্যাপের মধ্যে অ্যান্ড্রয়েড ফোনের জন্য কোনটি ভালো
অ্যান্ড্রয়েড ফোনের ক্ষেত্রে থার্ড পার্টি অ্যাপ এবং সিস্টেম অ্যাপ উভয়েডের
নিজস্ব সুবিধা ও অসুবিধা রয়েছে। তবে, আপনার জন্য কোনটি ভালো হবে তা নির্ভর
করে আপনি কি ধরনের কাজ করতে চাচ্ছেন তার উপর। একেক কাজের জন্য একেক রকম অ্যাপ
ব্যবহার করা ভালো। নিচে বিস্তারিতভাবে থার্ড পার্টি অ্যাপ ও সেস্টেম অ্যাপের
মধ্যে সুবিধা ও অসুবিধা আলোচনা করা হলোঃ
- সিস্টেম অ্যাপঃ এগুলো ফোন কেনার সময় কোম্পানির পক্ষ থেকে আগে থেকেই ইন্সটল করা থাকে। যেমনঃ গ্যালারি, ফাইল ম্যানেজার, ডায়ালার বা স্যামসাং বা শাওমির নিজস্ব অ্যাপ। এর কিছু সুবিধা আছে। যেমন, এগুলো ফোনের হার্ডওয়্যারের সাথে খুব ভালো করে কাজ করে। ফলে ব্যাটারি খরচ কম হয়। এর নিরাপত্তা অপশন অনেক ভালো। এগুলো সাধারণত বেশি নিরাপদ এবং প্লে প্রোটেক্ট দ্বারা ভেরিফাইড থাকে। এর স্থায়িত্ব কাল বেশি। এগুলো সহজে ক্র্যাশ করে না এবং ফোনের সিস্টেমের সাথে গভীরভাবে যুক্ত থাকে। এর শুধু সুবিধা না কিছু অসুবিধাও আছে। যেমনঃ এর ফিচার কম। অনেক সময় স্টক অ্যাপ এ খুব বেশি ফিচার থাকে না। আবার সিস্টেম অ্যাপ গুলো সাধারণত আনইন্সটল করা যায় না শুধু ডিজেবল করা যায়।
- থার্ড পার্টি অ্যাপঃ এগুলো সাধারণত গুগল প্লে স্টোর বা অন্য কোন উৎস থেকে ডাউনলোড করে ইন্সটল করতে হয়। যেমনঃ Whatsapp, Facebook, MX Player ইত্যাদি। এর কিছু সুবিধা আছে। যেমনঃ এদের উন্নত ফিচার থাকে। এগুলো প্রতিনিয়ত আপডেট হয় এবং এতে অনেক আধুনিক ও উন্নত ফিচার থাকে। এখানে আপনি আপনার ইচ্ছে মতো অ্যাপ কাস্টমাইজেশন করতে পারেন অর্থাৎ আপনার পছন্দমতো অ্যাপ বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা থাকে। সাধারণত সিস্টেম অ্যাপের চেয়ে ইন্টারফেস বেশি আকর্ষণীয় ও সহজ হয়। রিসোর্স বেশি নেয় যেমন অনেক অ্যাপ ব্যাকগ্রাউন্ডে চলতে থাকে যা ব্যাটারি এবং র্যাম (ram) বেশি খরচ করতে পারে। ভেরিফাইড না হলে বা অচেনা সোর্স থেকে নামালে ভাইরাস বা ডাটা চুরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
- কোনটি আপনার জন্য ভালোঃ ব্যাসিক ব্যবহারের জন্য সিস্টেম অ্যাপ ভালো। কল করা, মেসেজ দেওয়া, গ্যালারি দেখা বা ফাইল ম্যানেজ করার জন্য সিস্টেম অ্যাপ দ্রুত কাজ করে। আবার, উন্নত ফিচার ও কাস্টমাইজেশনের জন্য থার্ড পার্টি অ্যাপ ভালো। যদি সিস্টেম অ্যাপের ফিচারে আপনার কাজ ভালো না হয় তবে ভালো মানের থার্ড পার্টি অ্যাপ ব্যবহার করা উচিত। ফোনকে সুরক্ষিত ও দ্রুত রাখতে প্রয়োজনীয় সিস্টেম অ্যাপ ব্যবহার করুন এবং বাড়তি ফিচারের জন্য নির্ভরযোগ্য থার্ড পার্টি অ্যাপ ব্যবহার করুন। তবে, যে কোন অ্যাপ ব্যবহার করবেন না এতে আপনার ফোনের ক্ষতি হতে পারে তাই জেনে-শুনে ও বুঝে তারপরে থার্ড পার্টি অ্যাপ ব্যবহার করুন।
আরও পড়ুনঃ
কিভাবে ফ্রি টাকা ইনকাম করা যায়
অ্যান্ড্রয়েড ফোনের রুট এর কাজ কি
অ্যান্ড্রয়েড ফোনে রুট (Root) করার অর্থ হলো ফোনের অপারেটিং সিস্টেমের ওপর
পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বা অ্যাডমিনিস্ট্রেটর ক্ষমতা লাভ করা, যা সাধারণত সাধারণ
ব্যবহারকারীদের জন্য সীমাবদ্ধ থাকে। রুটেড ফোনের প্রধান কাজ ও সুবিধাগুলো বোঝার
সুবিধার্থে নিচে দেওয়া হলোঃ
- সিস্টেম অ্যাপ মুছে ফেলাঃ ফোন কেনার সময় প্রি- ইন্সটল করা অপ্রয়োজনীয় অ্যাপস গুলো সাধারণ অবস্থায় রিমুভ করা যায় না, তবে রুট করার পর সেগুলো ডিলিট করা যায়।
- কাস্টমাইজেশনঃ ফোনের ফন্ট, আইকন স্টাইল, ব্যাটারি আইকন, এবং সিস্টেম ইউ আই(UI) সম্পূর্ণ নিজের মত পরিবর্তন করা যায়।
- সোশ্যাল অ্যাপ ব্যবহারঃ এমন অনেক অ্যাপস আছে যেমনঃ Titanium Backup, Root Explorer যা ব্যবহারের জন্য রুট এক্সেস প্রয়োজন হয় না।
- পারফরমেন্স বৃদ্ধিঃ CPU Overblock করে ফোনের গতি বাড়ানো বা আন্ডার ব্লক করে ব্যাটারি ব্যাকআপ বাড়ানো যায়।
- কাস্টম রম ইনস্টলঃ ফোনের পুরনো অ্যান্ড্রয়েড ভার্সন পরিবর্তন করে নতুন বা কাস্টম রম ইন্সটল করা যায়, যা ফোনের কার্যক্ষমতা সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে।
- অ্যাড ব্লকিংঃ সিস্টেম এর হোস্ট ফাইল পরিবর্তনের মাধ্যমে ব্রাউজার, গেম বা অ্যাপের ভেতরে আসা বিরক্তিকর বিজ্ঞাপন স্থায়ীভাবে বন্ধ করা যায়। তবে রুট করলে ফোনের ওয়ারেন্টি বাতিল হতে পারে এবং ভুল পদ্ধতিতে রুট করলে ফোনটি স্থায়ীভাবে অকার্যকর বা ব্রিক হয়ে যেতে পারে। তাই সতর্কতা মেনে রুট করতে হবে।
রুট এক্সপ্লোরার ব্যবহার করে থার্ড পার্টি অ্যাপগুলোকে সিস্টেম অ্যাপে বানানোর নিয়ম
রুট এক্সপ্লোরার বা অনুরূপ কোন রুট সক্ষম ফাইল ম্যানেজার ব্যবহার করে থার্ড
পার্টি (ইউজার) অ্যাপকে সিস্টেম অ্যাপ এ রূপান্তর করার জন্য আপনার ডিভাইসটি
অবশ্যই রুট করা থাকতে হবে। এর জন্য কয়েকটি প্রয়োজনীয় পূর্ব পূর্ব শর্ত হলোঃ
ডিভাইস রুট করা থাকতে হবে, রুট এক্সপ্লোরার অ্যাপ ইন্সটল করা থাকতে হবে,
সিস্টেম পার্টিশনে অ্যাপ রাখার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা থাকতে হবে। রুট
এক্সপ্লোরার ব্যবহার করে সিস্টেম অ্যাপ বানানোর নিয়ম নিচে দেওয়া হলোঃ
- রুট এক্সপ্লোরার ওপেন ও পারমিশনঃ রুট এক্সপ্লোরার অ্যাপটি ওপেন করুন এবং প্রয়োজন হলে সুপার ইউজার পারমিশন গ্রান্ট করুন।
- রুট ডিরেক্টরিতে যাওয়াঃ অ্যাপের মূল ডিরেক্টরি থেকে ডাটা ফোল্ডারে যান এবং এরপর অ্যাপ ফোল্ডারে প্রবেশ করুন।
- অ্যাপ খুঁজে বের করাঃ আপনি যে অ্যাপটি সিস্টেম অ্যাপ বানাতে চান সেটির ফোল্ডারটি খুঁজে বের করুন।
- অ্যাপ কাট বা কপি করাঃ ওই অ্যাপ ফোল্ডারটির ওপর লং প্রেস করে cut বা copy করুন।
- সিস্টেম ফোল্ডারে পেস্ট করাঃ এবার মূল রুট ডিরেক্টরটিতে ফিরে এসে সিস্টেম ফোল্ডারে যান তারপর অ্যাপ ফোল্ডারে প্রবেশ করে অ্যাপটি পেস্ট করুন।
- পারমিশন সেট করাঃ এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ কাজ এর জন্য। পেস্ট করা অ্যাপ ফোল্ডারটির ভিতরে প্রেবেশ করুন। অ্যাপের .apk ফাইলটির উপর লং প্রেস করে permission অপশনে যান। এরপর পারমিশন সেট করুন।
- রিবুট করাঃ এবার আপনার ফোনটি রিবুট করুন।
Link2SD অ্যাপ ব্যবহার করে সিস্টেম অ্যাপ বানানোর নিয়ম
Link2SD ব্যবহার করে ইউজার অ্যাপকে সিস্টেম অ্যাপ এ রূপান্তর করতে,
প্রথমে ফোন রুট করুন, তারপর অ্যাপটি ওপেন করে কাঙ্খিত অ্যাপটিতে ট্যাপ করে
মেনু থেকে "Convert to System App" নির্বাচন করুন. এই প্রক্রিয়াটি
সফল করতে ফোন রিবুট করা প্রয়োজন হতে পারে। এটি সাধারণত মেমোরি খালি করতে
এবং অ্যাপ গুলোর কার্য ক্ষমতা বাড়াতে ব্যবহৃত হয়। Link2SD অ্যাপ ব্যবহার
করে সিস্টেম অ্যাপ বানানোর নিয়ম সমূহ নিচে দেওয়া হলোঃ
- রুট অ্যাক্সেসঃ আপনার অ্যান্ড্রয়েড ফোনটি অবশ্যই রুট করা থাকতে হবে।
- Link2SD ইনস্টলঃ অ্যাপটি ইন্সটল করুন।
- অ্যাপ নির্বাচনঃ অ্যাপটি ওপেন করুন এবং যে অ্যাপটিকে সিস্টেম অ্যাপ করতে চান, সেটা খুঁজে বের করুন।
- কনভার্ট করাঃ অ্যাপটির উপর লং প্রেস করুন বা ট্যাপ করুন, এরপর মেনু থেকে 'Convert to system app' অপশনটি সিলেক্ট করুন।
- নিশ্চিতকরণঃ একটি পপ-আপ আসবে, সেখানে OK চাপুন।
- রিবুটঃ কাজ শেষ হলে ফোনটি রিস্টার্ট বা রিবুট করুন।
সিস্টেমের প্রয়োজনীয় অ্যাপ যেমনঃ লঞ্চার, প্লে স্টোর কনভার্ট করলে ফোন
অস্বাভাবিক আচরণ করতে পারে। Link2SD এর মতো টুল ব্যবহার করে এসডি কার্ডে
অ্যাপ লিংক করার জন্য মেমোরি কার্ডে আলাদা পার্টিশন থাকা প্রয়োজন। রুট
করলে ফোনের সিকিউরিটি কমে যেতে পারে।
Magisk Module ব্যবহার করে সিস্টেম অ্যাপ বানানোর নিয়ম
Magisk Module ব্যবহার করে থার্ড পার্টি অ্যাপকে সিস্টেম অ্যাপে রুপান্তর
করা একটি নিরাপদ এবং সিস্টেমলেস পদ্ধতি, যা মূল সিস্টেম ফাইল পরিবর্তন না
করেই কাজ করে। যদি আপনার ফোনে Magisk দিয়ে রুট করা থাকে তবে এটি আপনার
ফোনের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ হবে। নিচে Magisk Module ব্যবহার করে থার্ড
পার্টি অ্যাপ থেকে সিস্টেম অ্যাপ বানানোর নিয়ম দেওয়া হলোঃ
- Magisk app- এ যান।
- App systemizer মডিউলটি ডাউনলোড এবং ইনস্টল করুন।
- Termux বা কোন টার্মিনাল অ্যাপ ওপেন করে su লিখে রুট অ্যাক্সেস নিন।
- systemize কমান্ড দিন।
- মেনু থেকে systemize installed apps অ্যাপ সিলেক্ট করুন।
- তালিকা থেকে আপনার অ্যাপটি বেছে নিন এবং সেটিকে সরানোর অপশন সিলেক্ট করুন।
- ফোন রিবুট করুন।
অপ্রয়োজনীয় বা সিস্টেমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয় এমন অ্যাপ সিস্টেম
অ্যাপ না করাই ভালো। মডিউল নিয়ে কোন সমস্যা হলে Magisk Module থেকে
মডিউলটি সরিয়ে (Remove) করলে ফোন রিস্টার্ট করলে সব আগের মত হয়ে
যাবে।
একটি ইউজার অ্যাপকে সিস্টেম অ্যাপে রুপান্তরের সব থেকে সহজ নিয়ম
একটি ইউজার অ্যাপকে (User app) সিস্টেম অ্যাপে (System app) রূপান্তর করার
সব থেকে সহজ নিয়ম হলো রুট এক্সপ্লোরার (Root Explorer) বা লাকি প্যাচার
(Lucky Patcher) অ্যাপ ব্যবহার করা। এর জন্য আপনার ফোন অবশ্যই রুট (Rooted)
করা থাকতে হবে। সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি অর্থাৎ রুট এক্সপ্লোরার ব্যবহার
করে একটি ইউজার অ্যাপকে সিস্টেম অ্যাপে রুপান্তরের পদ্ধতি নিচে উল্লেখ করা
হলোঃ
- রুট এক্সপ্লোরার (Root Explorer) অ্যাপটি ডাউনলোড করুন এবং ইন্সটল করুন।
- অ্যাপটি ওপেন করে রুট পারমিশন (Root permissin) দিন।
- অ্যাপের Root ডিরেক্টরিতে যান।
- /data/app- ফোল্ডারে যান, এখানে ব্যবহারকারীর ইন্সটল করা অ্যাপ থাকে।
- যে অ্যাপটি থার্ড পার্টি অ্যাপ থেকে সিস্টেম অ্যাপ করতে চান, সেই অ্যাপটির ফোল্ডারটি খুঁজে বের করুন।
- ফোল্ডারটি কপি (Copy) করুন।
- এখন /system/app অথবা /system/priv-app ফোল্ডারে যান।
- ফোল্ডারটি সেখানে পেস্ট করুন।
- পেস্ট করা ফোল্ডারের ভেতরকার .apk ফাইল এবং ফোল্ডারটির (permission) অনুমতি rw-r--r-- এ সেট করুন।
- ফোনটি রিস্টার্ট বা রিবুট দিন। ব্যাস অ্যাপটি সিস্টেম অ্যাপ হয়ে যাবে।
ভুল অ্যাপ যেমনঃ Launcher, System UI সিস্টেম অ্যাপ এ রূপান্তর করলে ফোন
বুটলুপ ( Bootloop) বা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই শুধুমাত্র প্রয়োজনীয়
অ্যাপের ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার করুন।
লেখকের শেষ মন্তব্যঃ অ্যান্ড্রয়েডে থার্ড পার্টি অ্যাপকে সিস্টেম অ্যাপ বানানোর উপায়
অ্যান্ড্রয়েডে থার্ড পার্টি অ্যাপকে সিস্টেম অ্যাপ বানানোর উপায় সম্পর্কে
আমরা এই আর্টিকেলে বিস্তারিত ভাবে জেনেছি। কিভাবে অ্যান্ড্রয়েড ফোনে থার্ড
পার্টি অ্যাপকে সিস্টেম অ্যাপ বানানো যায় তার সব গুলো পদ্ধতি সম্পর্কে ওপরে
দেওয়া হয়েছে। তবে আপনি কি আপনার ফোনে থার্ড পার্টি অ্যাপ ব্যবহার করবেন
কিনা সেটা সম্পূর্ণ আপনার আর আপনার কাজের ওপর নির্ভরশীল। তবে যদি থার্ড
পার্টি অ্যাপ ব্যবহার করেন তবে সেটা ভালো করে যাচাই-বাছাই করে নিয়ে তারপর
ব্যবহার করবেন। তা না হলে আপনার ফোন নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
আপনি স্যামসাং গ্যালাক্সি ব্যবহার করেন বা অন্য কোন ফোন ব্যবহার করেন সব
অ্যান্ড্রয়েড ফোনের জন্যই ওপরের পদ্ধতিগুলো কার্যকর। তবে আপনি আপনার কাজের
জন্য যাই ব্যবহার করেন না কেন সব কিছু সাবধানে ব্যবহার করবেন। এরকম আরও
গুরুত্বপূর্ণ আর্টিকেল পড়ার জন্য আমাদের ওয়েবসাইটকে সাবসক্রাইব করে রাখুন
এবং আমাদের সাথেই থাকুন। ধন্যবাদ।

.webp)
.webp)
ইনফরমেশন বাজারের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url