অল্প পড়ে ভালো রেজাল্ট করার উপায়
আপনি কি জানতে চান যে কিভাবে অল্প পড়ে ভালো রেজাল্ট করা যায়? অনেকে তো সারাদিন-রাত পড়াশোনা করেও ভালো রেজাল্ট করতে পারছে না তাহলে কি আমি অল্প পড়ে ভালো রেজাল্ট করতে পারব? অল্প পড়ে ভালো রেজাল্ট করার মূল চাবিকাঠি হলো স্মার্ট স্টাডি।
কেউ সারাদিন পড়েও ভালো রেজাল্ট করতে পারছে না আবার কেউ অল্প পড়েও ভালো রেজাল্ট করছে। বিষয়টা অবিশ্বাস্য মনে হলেও এটাই বাস্তব। অল্প পড়ে ভালো রেজাল্ট করার কিছু টেকনিক আছে। আজকে আমরা এগুলো নিয়েই আলোচনা করব।
সূচিপত্রঃ অল্প পড়ে ভালো রেজাল্ট করার উপায়
- না পড়ে পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করার উপায়
- নিয়মিত পড়ার রুটিন তৈরি
- পড়াশোনায় মনযোগী হওয়ার উপায়
- সকালে পড়ার সুবিধা
- বুঝে বুঝে পড়ার চেষ্টা করা
- পরিক্ষার আগে সাজেশনের ব্যবহার
- কম সময়ে পরিক্ষার প্রস্তুতির গোপন টিপস
- যে পদ্ধতিতে লিখলে পরীক্ষায় নাম্বার বেশি পাবেন
- পর্যাপ্ত ঘুম ও সুস্বাস্থ্য বজায় রাখা
- পরিশেষে আমার মতামত
না পড়ে পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করার উপায়
অল্প পড়ে ভালো রেজাল্ট করার আরেক নাম হলো স্মার্ট স্টাডি। কঠোর পরিশ্রম করে দিনের পর দিন পড়াশোনা করা নয় বরং নিয়মিত রুটিন মেনে পড়ার পাশাপাশি পড়ার সময় মনোযোগ ধরে রাখা স্মার্টনেস স্টাডির মধ্যে পরে। অনেকে না পড়ে পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করতে চায়। তাই আমরা আজকে এমন কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করব যার দ্বারা আপনিও পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করতে পারবেন। নিচে এমন কিছু টিপস দেওয়া হলোঃ
- মুখস্ত না করে বুঝে পড়ার অভ্যাসঃ কোন পড়া মুখস্ত করতে গেলে সময় অনেক বেশি লাগে আবার অনেকের তাও পড়াটা মুখস্ত হয় না আর মুখস্ত হলেও অনেক সময় সেটা মনে থাকে না। তাই কোন পড়া মুখস্ত না করে বুঝে বুঝে পড়ার চেষ্টা করুন। এতে পড়াটা আপনার সারাজীবন মনে থাকবে। আর আপনি ভালভাবে বুঝে পরীক্ষার খাতায় লিখতেও পারবেন।
- বন্ধুর নোট নিয়ে পড়াঃ যারা নিয়মিত ক্লাস করে এমন বন্ধুদের থেকে নোট নিয়ে মেইন বিষয় গুলো আপনি দেখে নিতে পারেন, কারণ তাদের নোট খুবই কাজ করে। এতে আপনার সময় বাচবে আর আপনি মেইন টপিকস গুলোও পেয়ে যাবেন খুব সহজেই।
- পড়ার মধ্যে বিরতি নিয়ে পড়াঃ পরীক্ষার আগের রাতে পড়তে বসে ৩০ মিনিট পর পর ৫ মিনিটের অন্তত বিরতি নিয়ে পড়ুন। এতে আপনার মনোযোগ বাড়বে পড়ায় এবং মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বজায় থাকবে।
- বিগত সালের প্রশ্ন পড়াঃ বিগত সালের প্রশ্নপত্র গুলো অনুশীলন করুন কারণ একই প্রশ্ন অনেক সময় ঘুরে ফিরে আসে। এতে আপনি সহজেই ভালো রেজাল্ট করতে পারবেন।
- নিজের ওপর আত্মবিশ্বাস রাখাঃ নিজের ওপর আত্মবিশ্বাস রাখাটা হলো মেইন টপিকস পরীক্ষার জন্য। পরীক্ষার হলে নিজেকে শান্ত রাখুন, আপনি নিজেকে বিশ্বাস করান যে আপনি পারবেন তাহলেই দেখেবেন উত্তর আপানর মাথায় আসবে। তাই নিজের ওপর আত্মবিশ্বাস রাখুন।
আরও পড়ুনঃ ক্যালেন্ডার বানানোর উপায়
এইসব কৌশল যদি আপনার জানা থাকে তাহলে আপনি সহজেই পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করতে পারবেন। যেকোনো ছাত্র-ছাত্রীর জন্যই এই টপিকস গুলো জানা থাকা খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাহলে তারা সব পরিস্থিতিতেই মানিয়ে নিতে পারবে। আপনি যদি সারাবছর না পড়ে পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করতে চান তাহলে এই টিপস গুলো আপনার জন্যে।
নিয়মিত পড়ার রুটিন তৈরি
পড়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় বের করুন, প্রতিটি বিষয়ের জন্য সময় ভাগ করে নিন। এটা ঠিক যে প্রতিটা ছাত্র-ছাত্রীর জন্য একটি পারফেক্ট রুটিন তৈরি করা ও সেই রুটিন অনুযায়ী রেগুলার পড়া একটু কষ্ট, কিন্তু আপনি যদি চেষ্টা করেন তবে অবশ্যই পারবেন। আপনি যদি প্রতিদিন নিয়ম করে পড়াশোনা করেন তাহলে আপনার একটি অভ্যাস তৈরি হয়ে যাবে। ফলে আপনিও রুটিন অনুযায়ী আগাতে পারবেন। আপনি আপনার সময় মতো একটি রুটিন তৈরি করে নিতে পারেন। যেমন ধরুনঃ
- সকাল ৫টা থেকে ৭টা পর্যন্ত ২ ঘণ্টা পড়তে পারেন। আগের দিনের পড়া রিভিশন করার জন্য এটা পারফেক্ট সময়।
- দুপুর ২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত হোমওয়ার্ক শেষ করতে পারেন।
- সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত নতুন কোন পড়া পড়তে পারেন।
- রাত ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গুলো নোট ডাউন করে রাখতে পারেন।
পড়াশোনায় মনযোগী হওয়ার উপায়
যারা কঠোর পরিশ্রম করে তারাই যে শুধু ভালো রেজাল্ট করে এমন না। অল্প পড়ে কিন্তু ভালভাবে মনোযোগ দেয় এমন অনেক ছাত্র-ছাত্রীও আছে যারা অনেক ভালো রেজাল্ট করে। পড়াশোনা বা শ্রেণীকক্ষে মনযোগী হওয়ার উপকারিতা অনেক। আপনি যদি ক্লাসেই মনোযোগ দিয়ে শোনেন তাহলে বাসায় গিয়ে না পড়েও আপনার অনেক কিছু মনে থাকবে। মনোযোগ বেশি দিয়ে অল্প পড়েও ভালো রেজাল্ট করা যায়। তার কিছু টিপস নিচে দেওয়া হলোঃ
- পড়ার সময় মূল বিষয় গুলো নোট ডাউন করে রাখা। কারণ বই এর থেকে নোট পড়লে সময় কম লাগে আর মনযোগী হওয়া যায়।
- মুখস্ত না করে বুঝে বুঝে পড়লে সেই পড়া মনে থাকে ভালোভাবে।
- পড়ার সময় সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে থাকুন।
- পড়ার সময় কোন কিছু না বুঝলে সেটা ফোনে সার্চ করুন অথবা আপনার টিচারকে জিজ্ঞাসা করুন।
- সব থেকে ভালো হয় যদি ভোরে পড়তে বসেন। কারণ তখন আসেপাশে সাউন্ড কম থাকে ফলে আপনাকে কেউ বিরক্ত করবে না।
- পড়ার সময় অফলাইন থাকুন তাহলে কেউ কল বা ম্যাসেজ করতে পারবে না।
সকালে পড়ার সুবিধা
বুঝে বুঝে পড়ার চেষ্টা করা
- আপনি কি পরছেন সেই টপিকটা কি প্রথমে সেটা বোঝার চেষ্টা করুন।
- আপনি যখন কোন বিষয় বুঝে পড়েন তখন তা অনেকদিন মাথায় থাকে।
- বুঝে বুঝে পড়লে কম সময়ে বেশি পড়া মনে রাখা যায়।
- পড়ার বিষয় গুলো গল্পের মতো করে বুঝে নিন, এতে আপনার সহজ লাগবে।
- পড়ার সময় প্রশ্ন করুন, "এটা কেন হল, কিভাবে হলো"।
- নিজে যেটা ভালো পারেন সেটা অন্যদের বুঝানোর চেষ্টা করুন।
পরীক্ষার আগে সাজেশনের ব্যবহার
- সাজেশনে সংক্ষিপ্তভাবে প্রশ্ন ও উত্তর দেওয়া থাকে।
- সাজেশন রিভিশন করতে সহজ হয়।
- কোন প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ বা বেশি আসার সম্ভাবনা তা সাজেশন থেকে সহজেই বুঝা যায়।
- যারা নিয়মিত পড়েনি তাদের জন্য সাজেশনই শেষ ভরসা।
কম সময়ে পরীক্ষার প্রস্তুতির গোপন টিপস
- সবার আগে কয়েকদিনের জন্য একটা রুটিন তৈরি করুন।
- সাজেশন বা গাইড বই ফলো করুন।
- সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় গুলো বেছে নিন।
- নিজে নিজে না দেখে উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করুন।
- পড়ার সময় ভাগ করে নিন টপিকস অনুযায়ী। এতে আপনার কম সময়ে দ্রুত পড়া শেষ হবে।
যে পদ্ধতিতে লিখলে পরীক্ষায় নাম্বার বেশি পাবেন
- সবার আগে খাতায় সুন্দর ভাবে মার্জিন করুন।
- প্রশ্নের উত্তর গুছিয়ে সুন্দর করে লিখুন।
- প্রশ্নের উত্তর প্যারা বা পয়েন্ট করে লিখুন।
- যদি কোন জায়গায় কাটা দেওয়ার প্রয়োজন পরে তাহলে বেশি কাটাছিঁড়া না করে এক টান দিয়ে কেটে দিন।
- প্রথমে ভূমিকা, পরে বিশ্লেষণ এবং শেষে উপসংহার দিয়ে লিখবেন।
আরও পড়ুনঃ ইনফরমেশন বাজারের যোগাযোগের সব ঠিকানা
পর্যাপ্ত ঘুম ও সুস্বাস্থ্য বজায় রাখা
অনেকেই আছে যাদের না পড়ে কিভাবে পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করা যায় এই বিষয় মনে ঘুরপাক খায়। পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করার জন্য আগে সুস্থ থাকতে হবে। আর সুস্থ থাকার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম আর পুষ্টিকর খাবার প্রয়োজন। আমাদের সবার শরীরের জন্যই পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম দরকার। ঠিকমতো ঘুমালে আমাদের শরীর ও মন সতেজ থাকে।
পরীক্ষার আগের রাতে ভালোভাবে ঘুমানো প্রয়োজন। কারণ আমরা যদি রাতে ভালোভাবে ঘুমাই তাহলে পরেরদিন সকালে আমরা নিজেদের ফ্রেশ ও সতেজ মনে করব। পরীক্ষার আগের রাতের ঘুম আমাদের স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। আমাদের বেশি করে পানি পান করা এবং পুষ্টিকর খাবার খাওয়া উচিত সুস্থ থাকার জন্য।
ইনফরমেশন বাজারের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url