আমি যেভাবে ঘরে বসে ব্লগার ওয়েবসাইট থেকে আয় করি
ব্লগার ওয়েবসাইট থেকে আয়, কথাটা কি আপনিও শুনেছেন? অনেকেই মনে করেন, ব্লগার ওয়েবসাইট থেকে কি সত্যি আয় করা সম্ভব? হ্যাঁ সম্ভব! ব্লগার ওয়েবসাইট থেকে অনেক ভাবেই আয় করা সম্ভব। আমি নিজেও ব্লগার ওয়েবসাইট থেকে আয় করি। আপনিও চাইলে ব্লগার ওয়েবসাইট থেকে আয় করতে পারবেন।
ঘরে বসে ব্লগার ওয়েবসাইট থেকে আয় করার বেশ কিছু কার্যকর উপায় রয়েছে। আপনার যদি একটা ভালো স্মার্টফোন বা ল্যাপটপ থাকে তাহলে এই আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন। আজকের এই পোস্টটির মাধ্যমে জানতে পারবেন কিভাবে ব্লগার ওয়েবসাইট থেকে টাকা ইনকাম করা যায়।
সূচিপত্রঃ ব্লগার ওয়েবসাইট থেকে আয় করার নিয়ম
- ব্লগার ওয়েবসাইট (Website) কি?
- ব্লগার ওয়েবসাইট খুলে আয় করার নিয়ম
- ওয়েবসাইটে বাংলা আর্টিকেল লিখে আয়
- Google Adsense দিয়ে ওয়েবসাইট থেকে আয় করার উপায়
- ব্যাকলিংক এর মাধ্যমে ব্লগার ওয়েবসাইট থেকে ইনকাম
- নিউজ পোর্টাল ওয়েবসাইট খুলে আয় করার নিয়ম
- আর্টিকেল বিক্রি করে আয়
- ওয়েবসাইট বিক্রি করে আয়
- বিভিন্ন মার্কেটপ্লেসে কাজ করে আয়
- লেখকের শেষ মন্তব্য
ব্লগার ওয়েবসাইট (Website) কি?
ব্লগার ওয়েবসাইট (Blogger Website) হলো গুগলের মালিকানাধীন বা google কর্তৃক
পরিচালিত একটি সম্পূর্ণ ফ্রী অনলাইন কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম বা ব্লগিং
প্ল্যাটফর্ম, যার মাধ্যমে কোন প্রকার কোডিং জ্ঞান ছাড়াই সহজে ব্যক্তিগত বা
পেশাদার ব্লগ ওয়েবসাইট তৈরি করা যায়। এটি ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং ২০০৩ সালে
গুগল এটি অধিগ্রহণ করে। গুগল এটি বিনামূল্যে হোস্টিং প্রদান করে, যা blogpost.com
সাবডোমেনের মাধ্যমে ব্যবহার করা যায়।
কোডিং ছাড়া ড্র্যাগ-এন্ড-ড্রপ পদ্ধতিতে সহজে পোস্ট ও ডিজাইন করা যায়। নিজস্ব
ডোমেইন (যেমনঃ www.example.com) যুক্ত করার সুবিধা রয়েছে। গুগলের সার্ভারে হোস্ট
হওয়ায় সাইট অত্যন্ত নিরাপদ এবং দ্রুত হয়। গুগল অ্যাডসেন্স (Adsense) ব্যবহার
করে সহজে আয় করা যায়। সহজ কথায়, ব্লগার হলো অনলাইনে ডিজিটাল ডায়েরি বা তথ্য
শেয়ার করার ওয়েবসাইট, যেখানে নতুন লেখাগুলো সবার উপরে থাকে।
ব্লগার ওয়েবসাইট খুলে আয় করার নিয়ম
ব্লগার এ ওয়েবসাইট খুলে আয় করতে চাইলে একটি নিশ নির্বাচন করে নিয়মিত মানসম্মত
আর্টিকেল প্রকাশ করতে হবে। এরপর Google Adsense বা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর
মাধ্যমে মনিটাইজেশন অন করে মাসে ১০০ থেকে ৫০০ ডলার বা তার বেশি আয় করা সম্ভব।
ব্লগার ওয়েবসাইট খুলে আয় করার সম্পূর্ণ নিয়ম নিচে দেওয়া হলোঃ
- বিষয় নির্বাচন ও ব্লগ তৈরিঃ প্রথমে একটি নির্দিষ্ট বিষয় (যেমনঃ ভ্রমণ, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য) বেছে নিন। এরপর Blogger.com এ গিয়ে Google Account দিয়ে সাইন ইন করে একটি ব্লগ ওয়েবসাইট তৈরি করুন।
- ডোমেইন ও কাস্টমাইজেশনঃ সুন্দর দেখে একটি ডোমেইন নাম (Domain Name) পছন্দ করুন। আপনি চাইলে .com বা .net কিনে ব্লগার ওয়েবসাইটে সংযুক্ত করতে পারেন, যা পেশাদারিত্ব বাড়ায়।
- মানসম্মত কন্টেন্ট তৈরি (SEO)ঃ নিয়মিত ইউনিক ও তথ্যবহুল আর্টিকেল লিখে পোস্ট করুন। পাঠকদের প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে এসইও (SEO) ফ্রেন্ডলি তৈরি করুন। যাতে গুগল সার্চে আপনার ব্লগ দ্রুত র্যাঙ্ক করতে পারে।
- ব্লগ মনিটাইজেশন (আয়ের উপায়)ঃ নিয়মিত আর্টিকেল লেখার পরে আপনার ব্লগে মনিটাইজেশন অন করে দিন। এতে আপনার একাউন্টে টাকা আসতে থাকবে।
- ট্রাফিক বৃদ্ধিঃ নিয়মিত আপনার ব্লগ ওয়েবসাইটটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন এবং ভিজিটর বাড়াতে নিয়মিত কাজ করুন।
ওয়েবসাইটে বাংলা আর্টিকেল লিখে আয়
বাংলাদেশ বর্তমানে বিভিন্ন বাংলা ব্লগ, নিউজ পোর্টাল এবং ফ্রিল্যান্সিং সাইটে
আর্টিকেল লিখে প্রতি মাসে ভালো টাকা আয় করা সম্ভব। আপনি বিভিন্ন কনটেন্ট
মার্কেটপ্লেসে নিজের পছন্দই বিষয়ে (যেমনঃ প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, শিক্ষা)
ইউনিক আর্টিকেল লিখে আয় করতে পারেন। আপনি কি জানেন না যে কিভাবে শুরু করবেন?
তাহলে এই পার্টটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন।
- টপিক নির্বাচনঃ এমন বিষয় বেছে নিন যাতে আপনার জ্ঞান আছে এবং পাঠকরাও আগ্রহী।
- তথ্য সংগ্রহ ও রিসার্চঃ পাঁচ থেকে সাতটি সোর্স থেকে তথ্য সংগ্রহ করে নিজের ভাষায় লিখুন।
- SEO ফ্রেন্ডলি আর্টিকেলঃ সার্চ ইঞ্জিনে র্যাঙ্ক করার জন্য কি-ওয়ার্ড (Keyword) ব্যবহার করুন।
- প্ল্যাটফর্ম খোঁজাঃ বিভিন্ন ব্লগ সাইট, কন্টেন্ট এজেন্সি বা ফ্রিল্যান্সিং সাইট (যেমনঃ Fiverr, Upwork) এ কাজ খুঁজুন।
- আয়ের মাধ্যম সমূহঃ অন্য ব্লগে লিখে টাকা নেওয়া, নির্দিষ্ট ক্লায়েন্টের জন্য লেখা, গুগল অ্যাডসেন্স বা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর মাধ্যমে কাজ করা। পেমেন্ট সাধারণত বিকাশ বা অন্যান্য লোকাল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে পাওয়া যায়।
Google Adsense দিয়ে ওয়েবসাইট থেকে আয় করার উপায়
গুগল অ্যাডসেন্স ব্যবহার করে ওয়েবসাইট থেকে আয় করার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট
প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। গুগল অ্যাডসেন্সের পলিসি বা নিয়ম গুলো কঠোরভাবে
মেনে চলতে হয়, অন্যথায় অ্যাকাউন্ট বাতিল হতে পারে। বাংলা ব্লগের তুলনায় ইংরেজি
ব্লগের আয়ের পরিমাণ সাধারণত বেশি থাকে। প্রতি ১০০০ ভিউতে সাধারণত ২.৫ পর্যন্ত
আয় হতে পারে, যা কন্টেন্ট এর বিষয়বস্তু ও ভিজিটরের লোকেশন এর উপর নির্ভর করে।
নিচে এর প্রধান ধাপ গুলো দেওয়া হলোঃ
- একটি মানসম্মত ওয়েবসাইট তৈরিঃ প্রথমে আপনাকে একটি ওয়েবসাইট বা ব্লগ সাইট তৈরি করতে হবে। সাইটটিতে নিয়মিত মানসম্মত কন্টেন্ট বা আর্টিকেল পোস্ট করতে হবে।
- গুগল অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্টের জন্য আবেদনঃ সাইটে পর্যাপ্ত কন্টেন্ট এবং ভিজিটর আসার পর এডসেন্সের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে একটি অ্যাকাউন্টের জন্য আবেদন করতে হয়।
- সাইট কানেক্ট ও ভেরিফিকেশনঃ এডসেন্স একাউন্ট খোলার পর তারা আপনাকে একটি এইচটিএমএল (HTML) কোড দেবেন, যা আপনার ওয়েবসাইটের হেড সেকশনে যুক্ত করতে হবে। এরপর গুগল আপনার সাইটে পর্যালোচনা (Review) করবে।
- বিজ্ঞাপন প্রদর্শনঃ গুগল আপনার সাইটটি অনুমোদন করলে (Approve) করলে আপনি সাইটে বিজ্ঞাপন দেখানোর অনুমতি পাবেন।
- আয় ও পেমেন্টঃ যখন কোন ভিজিটর আপনার সাইটে প্রদর্শিত বিজ্ঞাপনে ক্লিক করবে অথবা বিজ্ঞাপনটি দেখবে তখন আপনার একাউন্টে টাকা জমা হবে। সাধারণত আপনার একাউন্টে ১০০ ডলার হলে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সেই টাকা তোলা যায়।
ব্যাকলিংক এর মাধ্যমে ব্লগার ওয়েবসাইট থেকে ইনকাম
ব্লগার ওয়েবসাইট থেকে ব্যাকলিংক এর মাধ্যমে মূলত দুটি উপায়ে আয় করা সম্ভব।
একটি হলো আপনার ওয়েবসাইটে অন্যের ব্যাকলিংক বিক্রি করা, আর অন্যটি হলো নিজের
সাইটের জন্য ব্যাকলিংক তৈরি করে অর্গানিক ভিজিটর বা ট্রাফিক বানানোর মাধ্যমে আয়
বৃদ্ধি করা। ব্যাকলিংক এর মাধ্যমে আয় করার প্রধান পদ্ধতি গুলো নিচে দেওয়া
হলোঃ
- গেস্ট পোস্টিং বা ব্যাকলিংক সার্ভিস বিক্রিঃ আপনার ব্লগের অথরিটি (DA/PA) বা ট্রাফিক যদি ভালো হয়, তবে আপনি সরাসরি ব্যাকলিংক বিক্রি করতে পারবেন.
- সাইটে ট্রাফিক বাড়িয়ে ইনকামঃ ব্যাকলিংক বা ওয়েবসাইটের গুগল র্যাঙ্কিং বাড়াতে সাহায্য করে। যত ভালো ব্যাকলিংক থাকবে, গুগল আপনার ওয়েবসাইটকে তত উপরে দেখাবে, ফলে বেশি ভিজিটর আসবে। বেশি ভিজিটর থাকলে গুগল এডসেন্স, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এই মাধ্যমে গুলো থেকে আয় বাড়বে।
- ব্যাকলিংক তৈরির মাধ্যমে আয় বৃদ্ধির জন্য করণীয়ঃ আপনার সাইটে এমন তথ্যবহুল পোস্ট লিখতে হবে যেন অন্য সাইট গুলো আপনাকে নিজ থেকেই লিংক দিতে চায়। সাইটের অনপেজ এসইও ঠিক রাখতে হবে, যেন ভিজিটররা বেশিক্ষণ থাকে আপনার ওয়েবসাইটে।
নিউজ পোর্টাল ওয়েবসাইট খুলে আয় করার নিয়ম
নিউজ পোর্টাল ওয়েবসাইট খুলে আয় করার জন্য একটি প্রফেশনাল ওয়েবসাইট তৈরি করে
নিয়মিত মানসম্মত নিউজ আপলোড করতে হবে এবং ভিজিটর বৃদ্ধি করে গুগল এডসেন্স,
স্পনসরশিপ ও অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর মাধ্যমে আয় করা
যায়। ডোমেইন-হোস্টিং কিনে ওয়ার্ডপ্রেসে সাইট তৈরি করে, বিশ্বাসযোগ্য
কন্টেন্ট দিয়ে ট্রাফিক বাড়াতে হবে। নিউজ পোর্টাল ওয়েবসাইট খুলে আয়ের মূল
পদক্ষেপ সমূহ নিচে আলোচনা করা হলোঃ
- প্ল্যাটফর্ম ও ডোমেইন নির্বাচনঃ একটি ক্যাচি নাম নির্বাচন ডোমেইন এবং ভালো মানের হোস্টিং কিনতে হবে।
- ওয়েবসাইট তৈরিঃ Blogger.com এ গিয়ে একটা ওয়েবসাইট খুলতে হবে। নিজের জিমেইল দিয়ে সাইন ইন করতে হবে।
- কন্টেন্ট বা নিউজ প্রকাশঃ প্রতিদিন অন্তত দুই থেকে তিনটি ইউনিক নিউজ বা আর্টিকেল প্রকাশ করতে হবে। সংবাদের সত্যতা এবং আকর্ষণীয় শিরোনাম নিশ্চিত করুন।
- SEO (সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন)ঃ মানুষ গুগলে কি লিখে সার্চ করছে সেই অনুযায়ী আর্টিকেল লিখুন। শিরোনাম (H1), মেটা ডেসক্রিপশন এবং ছবিগুলোতে অল্ট টেক্সট যুক্ত করুন।
- ওয়েবসাইটে এডসেন্স থেকে আয় করার উপায়ঃ ওয়েবসাইটে ভালো ট্রাফিক (ভিজিটর) আসার পর এডসেন্সের জন্য আবেদন করুন।
আর্টিকেল বিক্রি করে আয়
আপনার যদি একটা ওয়েবসাইট থাকে এবং সেখানে যদি অনেক ভালো ভালো যেমন, মানুষের
দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে বিভিন্ন ধরনের আর্টিকেল লিখে থাকেন,
তাহলে আপনি সেই আর্টিকেলগুলা বিক্রি করে আয় করতে পারেন। সেজন্য আপনাকে প্রথমে
বিভিন্ন মার্কেটপ্লেস যেমনঃ ফাইবার, আপওয়ার্ক, freelancer.com এই ধরনের
মার্কেটপ্লেসে আপনার নিজের একটা অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে এবং সেখানে বিভিন্ন
ধরনের ক্লায়েন্ট থাকে। তাদের কাছে আপনি আপনার আর্টিকেল বিক্রি করতে পারেন।
তবে সেই জন্য আপনাকে অনেক ভালো ভালো আর্টিকেল লিখতে হবে বিভিন্ন ধরনের কি-ওয়ার্ড
যেগুলো মানুষ বেশি বেশি গুগলে সার্চ করে এমন ধরনের আর্টিকেল লিখলে তাড়াতাড়ি
বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে আপনার ওয়েবসাইটে এমন কোনো ধরনের আর্টিকেল লেখা
উচিত না যেগুলো গুগল কর্তৃক নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তা না হলে আপনার ওয়েবসাইটের
রাঙ্কিং কমে যেতে পারে।
ওয়েবসাইট বিক্রি করে আয়
ব্লগার ওয়েবসাইট বিক্রি করে আয় করার প্রক্রিয়াটি বর্তমানে বেশ লাভজনক। আপনার
কাছে যদি এমন একটি ওয়েবসাইট থাকে, যেখানে নিয়মিত ভিজিটর আসে, তবে সেটি সরাসরি
বিক্রি করে এককালীন বড় অংকের টাকা আয় করা সম্ভব। আপনার ওয়েবসাইট বিক্রি করার
জন্য কিছু নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় প্ল্যাটফর্ম রয়েছে। এগুলো
হলোঃ Flippa, Empire flippers, সোশ্যাল মিডিয়া গ্রুপ ইত্যাদি।
একটি ব্লগার ওয়েবসাইটের দাম সাধারণত কিছু বিষয় গুলোর উপর ভিত্তি করে নির্ধারিত
হয়। যেমন, সাধারণত একটি ওয়েবসাইট থেকে যদি প্রতি মাসে যদি ১০০ ডলার আয় হয়
তাহলে সেটি ২০০০ থেকে ৩৫০০ ডলারে বিক্রি করতে পারবেন। সাইটটি যদি গুগল এডসেন্সের
অনুমোদিত হয় তবে এর চাহিদা ও দাম অনেক বেড়ে যায়।
বিক্রির অন্তত তিন থেকে ছয় মাস আগে থেকে সাইটে মানসম্মত কন্টেন্ট দিয়ে ট্রাফিক
বাড়ানোর চেষ্টা করতে হবে। স্ক্রিনশট বা ভিডিও রিপোর্ট তৈরি করে রাখতে হবে।
সাইটের ব্যাকলিংক বা এসইও স্কোর ভালো থাকলে বেশি দাম পাওয়া যায়। এই কাজগুলো
কমপ্লিট করার পর আপনি বিভিন্ন ধরনের মার্কেটপ্লেস, যেমনঃ ফাইবার, আপওয়ার্ক এদের
মতো মার্কেটপ্লেসে নিজের একাউন্ট খুলে ওয়েবসাইট বিক্রি করতে পারবেন।
বিভিন্ন মার্কেটপ্লেসে কাজ করে আয়
ব্লগার ওয়েবসাইট তৈরি, কাস্টমাইজেশন এবং কনটেন্ট রাইটিং এর মাধ্যমে বিভিন্ন
মার্কেটপ্লেসে কাজ করে আয় করা সম্ভব। এটি ফ্রিল্যান্সিং এর একটি চমৎকার ক্ষেত্র।
নিচে ব্লগার ওয়েবসাইট নিয়ে কাজ করার উপায় ও মার্কেটপ্লেস গুলো নিয়ে আলোচনা
করা হলোঃ
- জনপ্রিয় মার্কেটপ্লেসঃ ফাইবার, ফ্রিল্যান্সার ডট কম, আপওয়ার্ক ইত্যাদি হলো অনেক জনপ্রিয় একটি মার্কেটপ্লেস। ব্লগার ওয়েবসাইট সেটআপ, থিম কাস্টমাইজেশন, ব্লগ পোস্ট লেখার জন্য বড় প্রজেক্ট বা দীর্ঘমেয়াদী ব্লগ ম্যানেজমেন্ট এর কাজের জন্য এই মার্কেটপ্লেস গুলো ব্যবহার করা হয়।
- ব্লগার ওয়েবসাইট নিয়ে কি কি কাজ করা যায়ঃ ব্লগ সেটআপ ও কাস্টোমাইজেশন, কন্টেন্ট রাইটিং, এসইও, অ্যাডসেন্স অ্যাপ্রুভাল ইত্যাদি নিয়ে কাজ করা যায়।
- আয়ের বিভিন্ন মাধ্যমঃ বায়ারের জন্য ব্লগ তৈরি বা লিখে সরাসরি আয় করা যায়। নিজের ব্লগার সাইটে গুগল এডসেন্স বসে বিজ্ঞাপন থেকে আয় করা যায়। পণ্যের রিভিউ লিখে বা লিংক শেয়ার করে কমিশনের মাধ্যমে আয় করা যায়।
- সফল হওয়ার টিপসঃ একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে (যেমনঃ প্রযুক্তি, ভ্রমণ, স্বাস্থ্য) ব্লগ তৈরি করলে দ্রুত সফলতা পাওয়া যায়। তথ্যবহুল বা ইউনিক কন্টেন্ট বা আর্টিকেল লেখার উপর জোর দিন। ব্লগিং একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া, তাই নিয়মিত কাজ চালিয়ে যেতে হয়। ফ্রিল্যান্সাররা এই খাত থেকে মাসে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা করছেন।
লেখকের শেষ মন্তব্য
আমি নিজেও ব্লগার ওয়েবসাইট থেকে ওপরের পদ্ধতি গুলোর মাধ্যমে কাজ করে প্রত্যেক
মাসে টাকা ইনকাম করি। আপনিও চাইলে উপরে যেভাবে ইনকাম করার নিয়ম গুলো দেওয়া
হয়েছে সেগুলো ফলো করে আপনি প্রতি মাসে মোটা অংকের টাকা আয় করতে পারবেন। তাহলে
দেরি না করে এখনই নিজের ওয়েবসাইট তৈরি করে ইনকাম করা শুরু করুন। উপরের আর্টিকেল
নিয়ে আপনাদের যদি কোন মতামত থাকে তাহলে তা কমেন্ট বক্সের মাধ্যমে আমাদেরকে
জানাতে পারেন। আমরা আপনাদেরকে খুব দ্রুতই উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। এতক্ষণ
আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ। এরকম আরো আর্টিকেল পেতে চাইলে আমাদের
ওয়েবসাইটের সাথেই থাকুন। ধন্যবাদ।
.webp)
.webp)

ইনফরমেশন বাজারে নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url