বাংলাদেশের ৬৪ জেলার দর্শনীয় স্থান

সুজলা-সুফলা শস্য-শ্যামলা বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি উল্লেখযোগ্য পর্যটন স্থল নামে পরিচিত।  প্রতিবছর বাংলাদেশে বিপুল পরিমাণে দেশি-বিদেশি পর্যটক ঘুরতে আসে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সমৃদ্ধ সংস্কৃতি, আবহাওয়া সব মিলিয়ে বাংলাদেশ পর্যটকদের জন্য ভ্রমণের একটি সেরা জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

বাংলাদেশ

বাংলাদেশ নদী-মাতৃক দেশ। এই দেশে কম খরচে ভ্রমণের সুযোগ, বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থান, বিভিন্ন ধরনের খাবার ইত্যাদির জন্য পর্যটকদের অনেক পছন্দের জায়গা এটি। বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য কিছু  জায়গা রয়েছে যেখানে প্রতিদিন ভিড় হয়। এমন কিছু জায়গা সম্পর্কে আমরা এই আর্টিকেলে আলোচনা করব। নিচে বিভাগ ভিত্তিক দর্শনীয় স্থানগুলো আলোচনা করা হলো। 

সূচিপত্রঃ বাংলাদেশের দর্শনীয় স্থান

বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য

বাংলাদেশ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অপূর্ব লীলাভূমি। যা সবুজ বনানী, নদ-নদী, পাহাড় এবং বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারের জন্য সুপরিচিত। সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ বন, সিলেটের চা বাগান, বান্দরবানের পাহাড়ি দৃশ্য এবং ষড়ঋতুর পরিবর্তন এ দেশকে আরো সুন্দর করে তোলে। তাই বাংলাদেশকে "রূপসী বাংলা" বলা হয়ে থাকে। গ্রামীণ জনপদের সরলতা ও নদ-নদীর রুপ এ দেশকে আরো সুন্দর করে তোলে। বাংলাদেশের আবহাওয়া নাতিশীতোষ্ণ। এর ফলে এখানে শীত-গরম-বর্ষা সবই অনুভব করা যায়। 

ঢাকা বিভাগ এর দর্শনীয় স্থান

ঢাকা বাংলাদেশের রাজধানী। প্রায় চার কোটির মতো মানুষ বাস করে এখানে। ঢাকায় অনেক পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে যেখানে প্রতিদিন অনেক মানুষ ভিড় জমায়। এমন কিছু জায়গার নাম উল্লেখ করা হলোঃ ঢাকা চিড়িয়াখানা, লালবাগ কেল্লা, আহসান মঞ্জিল, ধানমন্ডি লেক, জাতীয় স্মৃতিসৌধ, কার্যন হল, জাতীয় জাদুঘর, বোটানিক্যাল গার্ডেন, ওসমানী উদ্যান,   সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, ফ্যান্টাসি কিংডম, বুড়িগঙ্গা ইকোপার্ক, সাত গম্বুজ মসজিদ, নকশী পল্লী, যমুনা ফিউচার পার্ক, রমনা পার্ক ইত্যাদি। 

এ ছাড়াও ঢাকা বিভাগে আরও কিছু দর্শনীয় স্থান রয়েছে। যেমনঃ তামানা ওয়াল্ড ফ্যামিলি পার্ক, বাহাদুর শাহ পার্ক, গ্রিন ভিউ রিসোর্ট, বিরুলিয়া জমিদার বাড়ি, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, জাতীয় সংসদ ভবন, তারা মসজিদ, শেখ মুজিব স্মৃতি জাদুঘর, রোজ গার্ডেন, বসুন্ধরা সিটি নন্দন পার্ক, শিশু পার্ক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বিজ্ঞান জাদুঘর, আলাদিন পার্ক, মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর, দিয়া বাড়ি, নভোথিয়েটার ইত্যাদি। এর বাইরেও আরো অনেক সুপরিচিত জায়গা রয়েছে ঢাকায়, যেখানে প্রায় মানুষের ভিড় লেগেই থাকে। তাই আমরা বলতে পারি যে, ঢাকায় ঘোড়ার মত জায়গার অভাব নেই। 

রাজশাহী বিভাগ এর দর্শনীয় স্থান 

রাজশাহীর কথা বললে সবার আগে মাথায় আসে পদ্মা নদীর কথা। এটি বাংলাদেশের অন্যতম দীর্ঘতম একটি নদী। পদ্মা নদীর তীর ঘেসে রাজশাহীতে অনেক পার্ক বানানো হয়েছে পর্যটকদের জন্য, যেখানে প্রত্যেক দিন অনেক মানুষ ঘুরতে যায়। এমনকি বাইরের এলাকার মানুষও সেখানে ঘুরতে যায়। তাই এক নিমেষেই বলা যায়, রাজশাহী অনেক সুন্দর একটি জায়গা ঘোড়ার জন্য। 

এছাড়াও রাজশাহী বিভাগে আরো কয়েকটি সুন্দর জায়গা আছে পর্যটকদের ঘোড়ার জন্য। যেমনঃ শহিদ জিয়া শিশু পার্ক, পদ্মা গার্ডেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, পুঠিয়া রাজবাড়ী, যমুনা সেতু, রবীন্দ্র কাচারী ঘর, নভোথিয়েটার, বঙ্গবন্ধু যমুনা ইকো পার্ক, চায়না বাঁধ, বাঘা বাড়ি, খেরুয়া মসজিদ, বৈরাগীর ভিটা, ওয়াটার ল্যান্ড পার্ক, তারাশ রাজবাড়ি, পাকশি রিসোর্ট, হার্ডিঞ্জ ব্রিজ, লালন শাহ সেতু, আজম চৌধুরী জমিদার বাড়ি, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, বলিহার রাজবাড়ী, পাহাড়পুর, কাশিমপুর রাজবাড়ি, দুবলহাটি রাজবাড়ি, নাটোর রাজবাড়ি, উত্তরা গণভবন, গ্রিন ভ্যালি পার্ক, চলন বিল, নীল কুঠি, স্বপ্ন পল্লী, লকমা রাজবাড়ী, পাগলা দেওয়ান বধ্য ভূমি, সাফিনা পার্ক ইত্যাদি।  

চট্টগ্রাম বিভাগ এর দর্শনীয় স্থান

চট্টগ্রাম বিভাগ পাহাড়-পর্বত, সমুদ্র এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অনন্য সংমিশ্রণ। প্রধান দর্শনীয় স্থানের মধ্যে রয়েছে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত, ফয়েস লেক, ওয়ার সিমেট্রি, বায়েজিদ বোস্তামীর মাজার, সীতাকুন্ডের চন্দ্রনাথ পাহাড়  ও খৈয়াছড়া ঝর্ণা, মীরসরায়ের মহামায়া লেক, রাঙ্গামাটির কাপ্তাই লেক, বান্দরবানের মেঘলা ও নীলগিরি, খাগড়াছড়ির সাজেক ভ্যালি। 

এছাড়াও চট্টগ্রাম বিভাগে আরো উল্লেখযোগ্য কিছু পর্যটন কেন্দ্র আছে। নিচে সেগুলো দেওয়া হলোঃ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, গুলিয়াখালি সমুদ্র সৈকত, আলুটিলা গুহা, পার্কী সমুদ্র সৈকত, বাঁশখালী ইকো পার্ক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জাদুঘর, জিয়া স্মৃতি জাদুঘর, বাংলাদেশ মেরিটাইম মিউজিয়াম, এনাটমি জাদুঘর, সিভাসু, পুলিশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, বাংলাদেশ রেলওয়ে যাদুঘর, কর্ণফুলী শিশু পার্ক, চট্টগ্রাম শিশু পার্ক, ডিসি পার্ক ইত্যাদি। চট্টগ্রাম বিভাগ মোট ১১ টি জেলা নিয়ে গঠিত। এখানে বেশিরভাগ বন জঙ্গলে ঘেরা। এটি সত্যি অসাধারণ একটি জায়গা পাহাড় লাভারদের জন্য। যারা পাহাড়ে ঘুরতে ভালোবাসেন তারা এখানে যেতে পারেন।

খুলনা বিভাগ এর দর্শনীয় স্থান

খুলনা বিভাগে মোট ১০টি জেলা আছে। এই দশটি জেলায় মনোমুগ্ধকর অনেক জায়গা আছে যেখানে বছরের সব সময় ভিড় থাকে। খুলনা বিভাগ বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহাসিক স্থাপত্য এবং সংস্কৃতির এক অপূর্ব মিলনস্থল। খুলনা বিভাগের সবচেয়ে দর্শনীয় স্থানগুলো হলোঃ ঐতিহাসিক ষাট গম্বুজ মসজিদ, খান জাহান আলীর মাজার, রবীন্দ্রনাথের ঠাকুরের কুঠি বাড়ি (শিলাইদহ কুঠি বাড়ি), লালন শাহের মাজার এবং বিশ্বের সবথেকে বৃহত্তম বন সুন্দরবন। 

সুন্দরবন হলো বঙ্গোপসাগর উপকূলবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত একটি প্রশস্ত ভূমি যা বিশ্বের প্রাকৃতিক বিস্ময়াবলির অন্যতম। তবে এগুলো ছাড়াও আরো অনেক দর্শনীয় স্থান রয়েছে খুলনা বিভাগে। এর মধ্যে অন্যতম হলোঃ কটকা, হিরন পয়েন্ট, দুবলার চর, করমজল, ফুলতলা, খান জাহান আলী সেতু (রূপসা সেতু), খুলনা বিভাগীয় জাদুঘর, জাহানাবাদ বনবিলাস চিরিয়াখানা, শহীদ হাদিস পার্ক, বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন এর সমাধি, পিঠা ভোগ (রবীন্দ্রনাথের পূর্বপুরুষের ভিটা), নয় গম্বুজ মসজিদ, বিবি বেগনী মসজিদ, সিংগাইর মসজিদ, রণবিজয়পুর মসজিদ, মাইকেল মধুসূদন দত্তের স্মৃতি বাড়ি, ভরত ভায়না, নান্দনিক শৈলকূপা শাহী মসজিদ ইত্যাদি। 

খুলনাকে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন বা রয়েল বেঙ্গল টাইগারের আবাসস্থল সুন্দরবনের প্রবেশদ্বার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এটি ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান। খুলনা বিভাগে অনেক কবিদের বাড়ি আছে। এখানে অনেক বেশি ঐতিহাসিক জায়গা রয়েছে। তাই যারা ইতিহাস প্রেমী তারা খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জায়গা ভ্রমণ করতে পারেন। এই স্থানগুলো সাধারণত শীতকালীন (নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি) ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে উপযোগী। 
বাংলাদেশ

বরিশাল বিভাগ এর দর্শনীয় স্থান

নদী-নালা, খাল-বিল এবং সবুজে ঘেরা বরিশাল প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের আধার, যা "বাংলার ভেনিস" নামে পরিচিত। বরিশালে বিভিন্ন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের নিদর্শন রয়েছে। এদের মধ্যে অন্যতম হলো বরিশালের ঐতিহ্যবাহী দুর্গাসাগর দিঘি। এখানে প্রতিদিন এ দিঘি দেখতে দেশ বিদেশ থেকে বহু মানুষের সমাগম হয়। 

বরিশালের প্রধান আকর্ষণীয় দর্শনীয় স্থান হলোঃ কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত (সূর্য উদয় ও সূর্যাস্তের স্থান), ভাসমান পেয়ারা বাজার, গুঠিয়া মসজিদ (বায়তুল আমান জামে মসজিদ), সাতলা শাপলা বিল, লাকুটিয়া জমিদার বাড়ি এবং অক্সফোর্ড মিশন চার্চ। এছাড়াও বরিশাল বিভাগে আরো অনেক পর্যটক স্থান আছে। যেমনঃ জীবনানন্দ দাসের বাড়ি, কীর্তন খেলার পাড়, কলসকাঠি জমিদার বাড়ি, বিবির পুকুর, প্লানেট পার্ক ইত্যাদি। বরিশাল বিভাগে ভ্রমণের সেরা সময় হলো জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত (শাপলা ও পেয়ারার জন্য) এবং শীতকাল। তাই বাংলাদেশে ভাসমান পেয়ারার বাজার দেখতে চাইলে চলে যান বরিশালে। 

রংপুর বিভাগ এর দর্শনীয় স্থান 

রংপুর হলো উত্তরবঙ্গের একটি ঐতিহ্যবাহী প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা একটি জেলা। তিস্তা নদীর অববাহিকা, সবুজ মাঠ এবং ঐতিহাসিক নিদর্শন এ গড়া এই অঞ্চলটি পর্যটকদের মুগ্ধ করে। রংপুর বিভাগ মোট আটটি জেলা নিয়ে গঠিত। রংপুরের প্রত্যেকটি জেলাই অনেক বেশি সুন্দর। এই জেলা পর্যটকদের আকর্ষণ করে। এই বিভাগের সৌন্দর্যের মধ্যে রয়েছে, কারমাইকেল কলেজ, ভিন্ন জগৎ পার্ক, তিস্তা ব্যারেজ, স্বপ্নপুরী এবং বেগম রোকেয়ার স্মৃতি বিজড়িত পায়রাবন্দ।
 
এগুলো ছাড়াও রংপুর বিভাগে আরো অনেক জনপ্রিয় স্থান রয়েছে। তাদের মধ্যে কিছু উল্লেখ করা হলোঃ তিস্তা ও ঘাগাট নদীর তীরের মনোরম পরিবেশ ও এখানকার সবুজ ফসলি জমি যা সবাই পছন্দ করে, চিকলি ওয়াটার পার্ক, রংপুর চিড়িয়াখানা, গ্রামীন সৌন্দর্যের মধ্যে অন্যতম তেবারা ও রসুলপুরের গ্রাম, কান্তজির মন্দির, রামসাগর, ঘাগট প্রয়াস পার্ক, নয়াবাদ মসজিদ, দিনাজপুর রাজবাড়ি, গর-এ-শহীদ বড় ময়দান (বাংলাদেশের সব থেকে বড় ঈদগাহ মাঠ), হারানো মন্দির, রক মিউজিয়াম, চা বাগান, তেতুলিয়া ডাকবাংলো, বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট, ধরলা ব্রিজ, ফানসিটি শিশু পার্ক, ঠাকুরগাঁও সুগার মিল, রাজভিটি, গাইবান্ধা পৌর পার্ক, নলডাঙ্গা জমিদার বাড়ি, নীলসাগর দিঘি ইত্যাদি। 

রংপুর ভ্রমণের সেরা সময় হলো নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ শীতকাল। যখন আবহাওয়া ঠান্ডা ও শুষ্ক থাকে। এই সময় রংপুরের বিভিন্ন পর্যটক স্থান গুলো ঘুরে দেখা আরামদায়ক। এছাড়া জুন-জুলাইয়ের দিকে এখানে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয় আর অনেক গরম থাকে। রংপুর শহরে থাকার জন্য অনেক ভালো মানে হোটেল রিসোর্ট আছে। 

সিলেট বিভাগ এর দর্শনীয় স্থান 

সিলেট বিভাগ হলো এমন একটি জায়গা যার সৌন্দর্যের বর্ণনা দিয়ে শেষ করা যাবে না। সিলেট বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত এক অপরূপ লীলাভূমি। যা তার সবুজ চা বাগান, নীল জলের নদী, পাহাড় এবং পাথুরে ঝর্ণার জন্য বিখ্যাত। সিলেট বললে সবার আগে মাথায় আসে চা বাগান। চা বাগানের জন্য সিলেট বিভাগ বাংলাদেশের অন্যতম একটি বিভাগ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সৌন্দর্যের জন্য অনেক বেশি পরিচিত এই বিভাগটি।

সিলেটের জাফলং, রাতারগুল জলাবন, বিছাকান্দি, সাদাপাথর (ভোলাগঞ্জ), লালাখাল,   মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত এবং শ্রীমঙ্গলের চা বাগান উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও হযরত শাহজালাল (রঃ) এবং শাহপরাণ (রঃ) এর মাজার অন্যতম আধ্যাত্মিক স্থান হিসেবে পরিচিত। সিলেটের জাফলং এ আছে পিয়াইন নদী, পাথর ও পাহাড়ের অপূর্ব দৃশ্য। বাংলাদেশের একমাত্র মিঠা পানির জলাবন হলো রাতারগুল জলাবন, যা সিলেটে অবস্থিত। যাকে "আমাজন অফ বাংলাদেশ" বলা হয়। এছাড়াও সিলেটে আছে পান্থুমাই জলপ্রপাত (ভারতের পাহাড় থেকে নেমে আসা ঝর্ণা), মালনীছড়া চা বাগান, আলী আমজাদের ঘড়ি,  লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, হামহাম জলপ্রপাত, টাংগুয়ার হাওর, সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান ইত্যাদি। 

সিলেট ভ্রমণের উপযুক্ত সময় হলো নভেম্বর থেকে মার্চ মাস অর্থাৎ শীতকাল। এই সময়ে আবহাওয়া আরামদায়ক থাকে যা চা বাগান, রাতারগুল জলাবন, জাফলং, বিছাকান্দি দেখার জন্য চমৎকার একটা সময়। বর্ষার রূপ দেখতে চাইলে জুন থেকে সেপ্টেম্বর সেরা। তবে এই সময় অনেক গরম পড়ে আর এই সময় ভারী বৃষ্টিপাতের জন্য নৌপথে যাতায়াতের সতর্কতা প্রয়োজন। আমার সব থেকে পছন্দের জায়গা হলো সিলেট। তাই আপনিও এখানে যেতে পারেন আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা এক মনোরম পরিবেশ উপভোগ করতে পারেন।

ময়মনসিংহ বিভাগ এর দর্শনীয় স্থান

ময়মনসিংহ বিভাগ ৪টি জেলা নিয়ে গঠিত। ময়মনসিংহ, জামালপুর, নেত্রকোণা, শেরপুর। এখানে রয়েছে চমৎকার সব ঐতিহাসিক ও প্রাকৃতিক স্থান। নেত্রকোনার বিজয়পুরের চীনা মাটির পাহাড় ও সোমেশ্বরী নদী, শেরপুরের গজনি অবকাশ কেন্দ্র এবং ময়মনসিংহের জয়নুল আবেদিন পার্ক হলো এই  বিভাগের অন্যতম জনপ্রিয় স্থান। 

বিভাগের জেলাভিত্তিক জনপ্রিয় স্থান গুলোর একটি তালিকা নিচে দেওয়া হলোঃ ময়মনসিংহ জেলাঃ শশীলজ, জয়নাল আবেদীন সংগ্রহশালা, জয়নাল আবেদীন পার্ক, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়,    বোটানিক্যাল গার্ডেন, মুক্তাগাছার জমিদার বাড়ি ইত্যাদি। নেত্রকোণা জেলাঃ বিরিশারী, কমলা রানী দিঘি ও হাজং মাতা রাশিমণি স্মৃতিসৌধ উল্লেখযোগ্য। শেরপুর জেলাঃ মধুটিলা ইকোপার্ক এবং গজনী অবকাশ কেন্দ্র। জামালপুর জেলাঃ হযরত শাহ জামাল (রঃ) এর মাজার, দয়াময়ী মন্দির ইত্যাদি।
বাংলাদেশ

পর্যটকদের কাছে বাংলাদেশের সেরা কয়েকটি দর্শনীয় স্থান

বাংলাদেশ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দেশ। এটি নদী-মাতৃক দেশ। পর্যটকরা এই  দেশকে অনেক পছন্দ করে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সাশ্রয়ী ভ্রমণ, বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি, এবং আন্তরিক আতিথেয়তার কারণে পর্যটকদের কাছে বাংলাদেশ অনন্য ও আকর্ষণীয় একটি দেশ। বাংলাদেশে এরকম কয়েকটা জায়গা আছে যেখানে ভিড় সবসময় লেগেই থাকে। 

বাংলাদেশের পর্যটন আকর্ষণ গুলোর মধ্যে রয়েছে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার (বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক বালুকাময় সমুদ্র সৈকত), ম্যানগ্রোভ বন সমুদ্র সুন্দরবন (বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন বা বেঙ্গল টাইগার এর এরিয়া), প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিন (নারিকেল জিঞ্জিরা নামেও পরিচিত), পাহাড় ঘেরা সাজেক ভ্যালি (মেঘের রাজ্য হিসেবেও পরিচিত), বান্দরবান (চিম্বুক পাহাড়, নীলগিরি এবং বগালেক সহ পাহাড়ি সৌন্দর্যের আধার)। 

এগুলোর বাইরে আরো কয়েকটি জায়গা আছে বাংলাদেশে যেগুলো পর্যটকরা অনেক পছন্দ করে। যেমনঃ শ্রীমঙ্গল (চায়ের দেশ), কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত (সূর্যাস্ত ও সূর্য উদয় দুইটাই দেখার জন্য), বাঘেরহাটের ষাট গম্বুজ মসজিদ, নওগাঁর সোমপুর মহাবিহার (পাহাড়পুর), সোনারগাঁও, সিলেটের জাফলং, বিছাকান্দি, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, লালবাগ কেল্লা, আহসান মঞ্জিল, জাতীয় সংসদ ভবন, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত, বাংলাদেশের জাতীয় চিড়িয়াখানা ঢাকা ইত্যাদি। অর্থাৎ কেউ যদি বাংলাদেশ ভ্রমণ বা বাংলাদেশ সম্পর্কে জানতে চায় তাহলে তাকে এই জায়গা গুলো অবশ্যই ভ্রমণ করতে হবে।

শেষকথা

পুরো আলোচনা থেকে একটা বিষয় পরিষ্কার যে, পৃথিবীতে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দিক দিয়ে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে আছে। এই দেশের সৌন্দর্য, যার মধ্যে রয়েছে, সবুজ বনভূমি, বিস্তীর্ণ নদ-নদী, পাহাড়ি অঞ্চল, সমতল ভূমি ইত্যাদি। এ দেশে ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে গ্রাম বাংলার রূপও বদলে যায়, যা চারপাশে মুগ্ধতা ছড়ায়। তাই সব শেষে বলতে হচ্ছে যে, প্রকৃতি প্রেমীদের জন্য বাংলাদেশ ভ্রমণের লিস্টে নাম্বার ওয়ানে থাকবে। 

বাংলাদেশের ৬৪ জেলার দর্শনীয় স্থানগুলো অবশ্যই সবার ভ্রমণ করা উচিত। এই রূপসী বাংলার অপরুপ বনভূমি, নদী ও ঋতু যেন চিরকাল অক্ষুণ্ণ থাকে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এই সবুজ শ্যামল রুপ অটুট রাখাই আমাদের সবার কামনা। এতক্ষণ আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ। এরকম আরো আর্টিকেল পেতে আমাদের ওয়েবসাইটের সাথেই থাকুন। ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ইনফরমেশন বাজারে নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url